![]() |
| সাবজেক্ট রিভিউ : অর্থনীতি |
অর্থনীতি একটি মৌলিক বিষয়। সে কারণে, অর্থনীতি সাবজেক্ট এর রয়েছে আজীবন চাহিদা বজায় রাখার ক্ষমতা। বর্তমান বিশ্বেও অর্থনৈতিক জ্ঞানের (অর্থনীতি সাবজেক্ট) উচ্চ চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে দেশের পাশাপাশি বিদেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে অর্থনীতি সাবজেক্ট এর ডিসিপ্লিন। তাই আপনি যদি অর্থনীতি সাবজেক্ট নিয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর করেন, তাহলে আপনাকে ভবিষ্যতে চাকরি খোঁজার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক অর্থনীতি সাবজেক্ট হিসেবে আপনার পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার জন্য কতটা প্রভাবক। এবং সে প্রভাব আপনার জন্য ইতিবাচক না নেতিবাচক হবে -
অর্থনীতি সাবজেক্ট আসলে কি?
অর্থনীতির ইংরেজি হলো ‘ইকোনোমিকস’ (Economics); এই ইকোনোমিকস শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ওইকোনোমিয়া’ (Oikonomia) থেকে উৎপত্তিলাভ করেছে। ‘ওইকোনোমিয়া’ অর্থ ‘গৃহ পরিচালনা’ (Household Management)।
গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বলেছেন, গৃহ পরিচালনা করার বিজ্ঞান হলো অর্থনীতি। তবে সময়ের ব্যবধানে ‘অর্থনীতি’ আর অ্যারিস্টটলের ‘গৃহ পরিচালনা করার বিজ্ঞান’র মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
আবার বিখ্যাত পণ্ডিত কৌটিল্যের ‘অর্থশাস্ত্র’ নামক গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে; কৌটিল্য সেখানে প্রাচীনকাল হতে অর্থনীতি চর্চার কথা বলে থাকলেও আধুনিক যুগের পণ্ডিত কিংবা গবেষকগণ মনে করেন- অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে আধুনিক শাস্ত্র।
আরও সহজ করে বললে, মানুষ সীমিত সম্পদ দিয়ে কীভাবে হক সম্পদ উৎপন্ন করে এবং কীভাবে এ সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে তার অভাব মোচন ও সার্বিক কল্যাণ অর্জন করে তা-ই অর্থনীতির মূল আলোচ্য বিষয়।
অর্থনীতি সাবজেক্ট কোথায় কোথায় পড়ানো হয় :
সরকারি, বেসরকারি এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি কলেজে অর্থনীতি একটি অনার্স বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়।
অর্থনীতি সাবজেক্ট এ অনার্স চার (০৪) বছরে যা পড়ানো হয়:
- মাইক্রো ইকোনোমিক
- ম্যাক্রো ইকোনোমিক
- গনিত
- পরিসংখ্যান
- ইকোনোমিকস
- হ্যালথ ইকোনোমিকস
- পাবলিক ইকোনোমিকস
- ফিন্যান্স
- একাউন্টটিং
- দর্শন
- কম্পিউটার ও সফটওয়্যার এনালাইসিস
- ডেভেলপমেন্ট ইকোনোমিকস
- এনভায়রনমেন্ট ইকোনোমিকস
- বাংলাদেশের অর্থনীতি
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান
অর্থনীতি সাবজেক্ট এ মাস্টার্স এর জন্য যা পড়ানো হয়:
- মাইক্রো ও ম্যাক্রো ইকোনোমিকস
- ইন্টারন্যাশনাল ট্রড
- বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সেক্টোরাল স্টাডিজ
- ইকোনোমিকস মডেলিং
- প্যানেল ডাটা এন্ড নন লিনিয়ার ইকোনোম্যাট্রিক্স
- ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনোমিক
অর্থনীতি সাবজেক্ট এ পড়াশোনার ধরণ:
ইকোনমিকস থিওরিটিক্যাল বিষয়। তবে অনার্স ও মাস্টার্স এ গণিত, পরিসংখ্যান, ডাটা সায়েন্স এইসব কোর্স করানো হয় যা পরবর্তীতে অর্থনীতিবিদরা বিভিন্ন বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকেন।
অর্থনীতি সাবজেক্ট এ পড়াকালীন এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি ও ক্যারিয়ার গঠন:
অর্থনীতির পড়া জটিল হলেও এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমের যথেষ্ট সুযোগ থাকে। বিজনেস ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ক্যারিয়ার ক্লাব, এম ইউ এন ক্লাব ইত্যাদি বিভিন্ন ক্লাবের মেম্বারশিপ এবং পোস্ট পরবর্তীতে কাজে লাগে। যদি পড়াশোনার পাশাপাশি এমন কোনো দায়িত্বে থাকা যায়, যেখানে সোশ্যাল এনগেজমেন্ট বেশি, নেটওয়ার্কিং করা যায়, ম্যানেজমেন্টের কার্যক্রম রয়েছে, অর্গানাইজেশন দক্ষতার প্রয়োজন হয়, তবে ভবিষ্যতে সেটা সিভিতে গুরুত্ব বহন করে। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজনেস সামিট, ইকোনমিকস সামিট, এমইউএন ইত্যাদিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও সাহায্য করে।
$ads={1}
অর্থনীতি সাবজেক্ট যাদের জন্য:
অর্থনীতিতে পড়ার আগে প্রস্তুতির জন্য সব বিষয়েই যে ভালো দখল থাকতে হবে, তা কিন্তু নয়। আমি যখন পড়েছি, তখন সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে গণিত ও ইংরেজির জ্ঞান। যেহেতু অর্থনীতির ভালো বইগুলো প্রায় সবই ইংরেজিতে লেখা, তাই ইংরেজিতে দখল থাকলে বিষয়গুলো সহজে রপ্ত করা যায়। আর যেহেতু অর্থনীতিতে পরিসংখ্যান ও অঙ্কের অনেক ব্যবহার রয়েছে তাই অঙ্কের ভিতটাও শক্ত থাকা দরকার। খুব যে ভালো হতে হবে তা-ও নয়। কিন্তু অঙ্ককে ভয় পেলে অর্থনীতি বিষয়টা বেছে না নেওয়াই ভাল।
![]() |
| সাবজেক্ট রিভিউ : অর্থনীতি |
অর্থনীতি সাবজেক্ট পড়বেন যে কারণে:
ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রকৌশল...কত রকম বিষয় আছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। কোন বিষয়ে আমি পড়ব, সিদ্ধান্ত নেওয়াই কঠিন। স্বপ্ন নিয়ের এই বিভাগে আমরা একেকটি বিষয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই।
বিশ্বে মৌলিক বিষয়গুলোর যেমন চাহিদা রয়েছে, অর্থনীতির চাহিদাটাও ঠিক সে রকমই। বর্তমানে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দিকে এগোচ্ছে। একটা সময় আসবে যখন খুব কমসংখ্যক ক্ষেত্রেই মানবিক বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন হবে। রোবট কোনো একটি বিষয় তার মধ্যে ধারণ করে নিলে, পরবর্তীকালে তা কাজে লাগিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে সময় অনেক কিছুরই প্রয়োজন না থাকলেও একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে অর্থনীতির চাহিদা থেকেই যাবে।
ধরুন, বিশ্বের সবচেয়ে অনুন্নত দেশে যদি কমপক্ষে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও থাকে, তবে সেখানে অর্থনীতি বিভাগটি অবশ্যই থাকবে। অতএব অর্থনীতিতে পড়লে কাজের সুযোগ নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। স্নাতক পর্যায়ে অর্থনীতিতে পড়ে পরবর্তীকালে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি করার সময় বিশেষায়িত দিকে যাওয়াই ভালো। কারণ এখন প্রায় সব বিষয়ই বিশেষায়িত হয়ে যাচ্ছে। তাই সেসব বিশেষায়ণ সম্পর্কে জানা না থাকলে পরবর্তীকালে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। আমি যেমন স্নাতকে অর্থনীতি নিয়ে পড়লেও স্নাতকোত্তরে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে ‘ইকোনমিকস অ্যান্ড সোশ্যাল পলিসি’ নিয়ে পড়েছি। যেটা অর্থনীতির বিশেষ ও স্বতন্ত্র একটি ক্ষেত্র। এ রকম আরও অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, যেমন—অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিকস, লেবার ইকোনমিকস ইত্যাদি।
অর্থনীতি সাবজেক্ট পড়ে ক্যারিয়ার বা কর্মসংস্থান:
অর্থনীতি পড়ে কেউ যদি শিক্ষকতা করতে চান, তাহলে পিএইচডি করে নেওয়া ভালো। এ ছাড়া শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণা করা যায়। সেটা একক গবেষণা হতে পারে, বা কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করা যেতে পারে। আমাদের দেশে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা আছে, যেমন: পিআরআই, সিপিডি (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ), পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইত্যাদি। এ ছাড়া বহুজাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যাঁরা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেন, যেমন: এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক), ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠানেও একজন অর্থনীতিতে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীর কাজের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থনীতির ছাত্রছাত্রীরা কাজের ক্ষেত্র খুঁজে পাবে।
আমাদের দেশে যেমন ডাক্তার-ইন্জিনিয়ার হলে বাবা-মায়ের বুক ফুলে ওঠে ঠিক তেমনি বিশ্বের প্রভাবশালী ধনী সম্প্রদায় ইহুদীদের অর্থনীতি নিয়ে উন্মাদনা কাজ করে। এমনকি অর্থনীতিতে পড়ে এমন ইহুদী ছাত্রের অর্থনৈতিক দুরাবস্থা থাকলে ইসরাঈলী সরকার নিজ দায়িত্বে তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে।
$ads={2}
অর্থনীতি সাবজেক্ট এর চাকরির বাজারের চাহিদা:
- সিজিপিএ ৩.৮+ রা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারবে এছাড়াও সিপিডির মতো প্রতিষ্ঠানের ফেলোশীপ পেতে পারেন।
- এরপরের মেধাবীদের জন্য আছে বিসিএস এ কোঠা দিয়ে পরিসংখ্যান ভবনের মতো জায়গায় ক্যাডার হওয়ার সুযোগ।
- বিশ্বব্যাংক এর এদেশীয় শাখা থেকে শুরু করে যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইকোনোমিকস সাব্জেক্ট কে খুবই প্রাধান্য করা হয়। যেকোনো কম্পানির ম্যানেজমেন্টে ৪-৫ বছরের অভিজ্ঞতায় ৮০ হাজার+ বেতন হওয়া অর্থনীতি সাবজেক্ট এর শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার!
- বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে গড়ে ৫০টা সিট থাকে অর্থনীতি সাবজেক্ট এর শিক্ষার্থীদের জন্য।
- অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই ইকোনোমিকস সাবজেক্ট আছে তার অর্থ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা চাকরীজীবনের শুরুতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতে পারবে।
এই যে এত বড় চাকরির বাজার শুধুই ইকোনোমিকস সাবজেক্ট পড়ুয়াদের জন্য সংরক্ষিত রইল তাহলে তুমি এবার চিন্তা করতে থাকো কোন চাকরিটা করবে...
![]() |
| সাবজেক্ট রিভিউ : অর্থনীতি |
অর্থনীতি সাবজেক্ট পড়ে বাংলাদেশে যত চাকরিঃ
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
- গবেষক
- আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা
- ফিন্যান্স অ্যাডভাইজার হিসেবে চাকুরী
- অর্থনীতিবিদ হিসেবে চাকুরী
- ব্যাংকে চাকুরীকনসালটেন্সি ফার্ম এ চাকুরী
- এনজিওতে চাকুরী
- বিশ্বব্যাংকে চাকুরী
- মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকুরী
- বিসিএস দিয়ে ক্যাডার হওয়ার সুযোগ (অর্থনীতি বিষয়ে বিসিএসে কোটা রয়েছে যা আপনার জন্য দারুণ সুযোগ হবে)
- হাই স্কুলের শিক্ষক (সরকারি ও বেসরকারি)
- কলেজের শিক্ষক (সরকারি ও বেসরকারি)
- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক (পাবলিক ও প্রাইভেট)
- বিসিএস দিয়ে নন ক্যাডার জব করা
- সকল প্রকার সাধারণ সরকারি চাকুরী
- এডিবি ও ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে চাকুরী
- প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক (সরকারি ও বেসরকারি)
- সমাজকর্মী
এছাড়াও, সারা দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অনেক পিএইচডি করা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং কানাডা সহ অনেক দেশেই পিএইচডি প্রোগ্রাম রয়েছে।(অর্থনীতি সাবজেক্ট)



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন